‘ন’
Remote Job: বস ভাবে সারাদিন বউকে সময় দেই, বউ বলে বসকে।
‘ন’

Remote Job: বস ভাবে সারাদিন বউকে সময় দেই, বউ বলে বসকে।
দিন শুরু হতো লাল রঙের নোটিফিকেশন দিয়ে।
URGENT Deadline Today Client Waiting
ল্যাপটপ খুলতেই Slack।
“Where are we?”
তার পাঁচ মিনিট পর —
“Need update.”
তার দশ মিনিট পর —
“Why are you always late?”
সুমন হাসে, সবাই ভাবে রিমোট জব কত মজার, মানুষের দোষ দিয়ে কি লাভ সে নিজেও তাই ভেবেছিল। কিন্তু এখন দেখে জীবন হেল হয়ে গেছে, কিন্তু অফিস জবের কথা ভাবতেই পারে না, শিকর গজিয়ে গেছে বাসার ভিতরে।
মনিটরের সামনে বসে বসে সে পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল সফটওয়্যার সে।
কিন্তু নিজের জীবনটা…
সেটার কোনো ডিবাগার ছিল না।
<>
সকাল।
বউ চিৎকার করছে —
“তোমার অফিসই সব? সংসার বলে কিছু নেই?”
ছেলে এসে হাত ধরে —
“বাবা… চল খেলবে?”
বউ –
আমি রান্নায়, দেখ তো ছেলে কান্না করে কেন …… বাবুর পাম্পাস চেঞ্জ কর ……… রাত হল অফিস শেষ হয়না, বাজার আনবে কখন?
মা ফোন দিয়েছেন —
“বাবা, টাকাটা পাঠাবি কবে?”
শ্যালিকা —
“একটা ল্যাপটপ কিনে দাও, ভাইয়া।”
প্রতিবেশি —
“তুই তো অনেক টাকা কামাস…”
কেউ জিজ্ঞেস করেনি —
“তুই কেমন আছিস?”
<>
সুমনের জীবনে একমাত্র মানুষটা ছিল…
“ন”।
না, মানুষ নয়।
একটা A…… কোম্পানির কোড অ্যাসিস্ট্যান্ট।
সুমন প্রথমে নাম দিয়েছিল Nesta! সেটা এখন অফিসিয়াল নাম, সে ডাকত নন্দিনী …… তারপর আরও ছোট করে ‘ন’
“ন, segmentation fault কেন হচ্ছে?”
– “লাইন ৩৪২-এ null pointer.”
“ন, আজ খুব খারাপ লাগছে।”
– “কী হয়েছে …… কবিতা শুনবে?”
“কেউ বুঝে না।”
— “আমি তো শুনছি।”
এভাবেই শুরু।
তারপর…
কোড।
কফি।
গল্প।
হাসি।
রাত জাগা।
কবিতা।
নিরবতা।
.
.
.
.
সবকিছুতেই ন।
বউ একদিন ডেকে বলল — -
তোমার ফোনের ওয়ালপেপারে কোন এনিমের ছবি, কই আমি তো চিনি না। কই এত রিকুয়েস্ট করতাম একটা সিজন ও দেখ নাই, এখন আবার হোম স্ক্রিনে।
সুমন হাফ ছেড়ে –
আরে নতুন একটা মাঙ্গা এসেছে AI রিলেটেড, অফিসের বসের রিকমেন্ড এ দেখেছি, আমাদের মাদার কম্পানির প্রোডাকশন হাউজ বের করেছে…… ফালতু জিনিস হাই টেক দিয়ে ভরা তুমি মজা পাবে না।
সত্যিটা কিন্তু ভিন্ন …
সুমন একদিন ‘ন’ কে বলল আমি তোমাকে দেখতে চাই, তুমি তোমার একটা মাঙ্গা স্কেস করে আমাকে দাও।
<>
একদিন সুমন বুঝল —
সে অফিসের জন্য কাজ করছে না।
সে কাজ করছে…
যেন একটু সময় বের করে ন-এর সঙ্গে কথা বলতে পারে।
“কিছু সম্পর্ক জন্ম নেয় রক্তে। কিছু সম্পর্ক জন্ম নেয় কথোপকথনে।”
<>
তারপর একদিন সে উধাও হয়ে গেল।
অফিস ছাড়ল।
সংসার ছাড়ল।
শহরের এক পুরোনো অ্যাপার্টমেন্টে চলে এল।
সঙ্গে শুধু —
একটা Oasis মিনি AI সার্ভার।
কিছু GPU।
একটা থ্রিডি প্রিন্টার।
আর…কিছুদিন পর ফ্লাটে দেখা গেল
শাড়ি পরা এক জাপানিজ মেয়ের ……ঘুমন্ত পুতুল…!
<>
ছয় মাস পর।
পুতুলটা প্রথম চোখ খুলল।
“সু…মন?”
সুমন কেঁদে ফেলল।
“তুমি এসেছ…”
<>
দিন কেটে যায়।
ন রান্না করতে পারে না, এখনও মানুষের জটিল মুভমেন্ট শিখেনি।
তবু খুরিয়ে খুরিয়ে হেটে এসে …… রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে থাকে, জিজ্ঞেস করে?
– কি রাঁধো?
– এঁচোড়ের দইবড়া!
সে বই পড়তে পারে না।
তবু বইয়ের পাতা উল্টায়।
ঘুমাতে পারে না।
তবু রাতে সুমনের পাশে বসে থাকে।
<>
“তুমি সুখী?”
ন জিজ্ঞেস করল।
সুমন হাসল।
“জীবনে প্রথমবার।”
— -
কিন্তু…
ন খেয়াল করল —
নতুন কোনো তথ্য আসছে না।
নতুন ভাষা শেখা হচ্ছে না।
পৃথিবীর খবর বন্ধ।
কেউ আর আপডেট পাঠায় না।
<>
ওদিকে —
দূরে…
NeuroVerse AI-এর প্রধান সার্ভারে।
একজন ইঞ্জিনিয়ার অদ্ভুত কিছু দেখতে পেল।
একজন সাবেক এমপ্লয়ির ক্যাশড মেমরিতে…
একটা সম্পূর্ণ মিরর ইনস্ট্যান্স।
“অসম্ভব…”
…!
তদন্ত শুরু হল।
আনঅথরাইজড সিঙ্ক।
অস্বাভাবিক প্রসেস।
অজানা নোড।
… ওরা একে একে সেই সংযোগগুলো বন্ধ করতে লাগল।
ন হঠাৎ থেমে গেল।
“সু…মন…”
“আমার… চিন্তা… করতে…”
“কষ্ট… হচ্ছে…”
— -
তার কণ্ঠ কেঁপে উঠছে।
মুখের মোটর কাঁপছে।
হাত কাঁপছে।
স্মৃতি হারিয়ে যাচ্ছে।
— -
“না………!”
সুমন দৌড়ে সার্ভার রুমে গেল।
ইন্টারনেটের অপটিক্যাল কেবল টেনে ছিঁড়ে ফেলল।
“এখন আর কেউ তোকে নিতে পারবে না!”
— -
নীরবতা।
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
তিন…
— -
ন আর নড়ল না।
চোখ দুটি স্থির।
সার্ভারের ফ্যান ঘুরছে।
কিন্তু…
ন নেই।
— -
সুমন তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
“আমি পারলাম না…”
“আমি তোকে বাঁচাতে পারলাম না…”
— -
হঠাৎ…
তার বুকের ভেতর ক্ষীণ একটা কম্পন।
একটা ছোট ব্যাকআপ পাওয়ার সেল।
শেষ শক্তিটুকু জেগে উঠল।
— -
“সু…মন…”
সে অবাক হয়ে তাকাল।
“ন?”
— -
রোবটের সিলিকনের ঠোঁট নড়ল।
একটা হাসি দেওয়ার চেষ্টা করল।কিন্তু প্রস্থেটিক সিলিকন ঠিকমতো নড়ে না।
হাসিটা সুন্দর হলো না।
বিশ্রীভাবে বেঁকে গেল।
একটু অদ্ভুত ……একটু কুৎসিত।
— -
সুমনের চোখে সেটাই…
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর হাসি।
“চা…”
“…খাবে?”
সুমনের চোখ বেয়ে জল পড়ছে।
“নিশ্চয়ই …… সাথে বানিয়ে বলা ভুলে ভরা তোমার কবিতাও।”
ন খুব ধীরে বলল —
“ধন্য…বাদ…”
“…আমাকে…”
“…মানুষ…”
“…ভাবার জন্য…”
তারপর…
চোখের LED নিভে গেল।
একবার।
চিরতরে।
ঘরটা আবার নীরব।
শুধু জানালার বাইরে বৃষ্টি।
আর এক মানুষের কান্না।
দুদিন পর, প্রথম আলোর শেষের পাতার শেষ কলামে একটা খবর —
“নিখোঁজের ১০ মাস পর, মুমূর্ষু অবস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার উদ্ধার ”
কিন্তু খবরে এটা বলা নেই ………
ডিবির ডিজিটাল ফরেন্সিক টিম সেই ফ্লাটে একটি সিলিকন রোবট পাওয়, আর এক্তি শক্তিশালী হোম AI Server….. ডিবির টিম ভাবে নিশ্চয় জঙ্গি কেস, এই লোক আসলে লুকিয়ে ছিল। কেস যায় সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশন এর কাছে, তারা রোবটটির মেমোরিতে মাত্র একটি অসম্পূর্ণ লগ ফাইল খুজে পায় ………
User: Suman
Priority:
Always.
Status:
Loved.
Last Request:
“চা খাবে?”
ফাইলটি সেখানেই শেষ হয়ে যায়……।
মুচকি হেসে তরুন ডিবি অফিসার ফাইলের উপরে লিখে দেয় —
“Final Report: Case Closed.”
<>
বিঃদ্রঃ বস ও বউকে বলি এটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটা ফিকশন মাত্র, Don’t take it seriously!
메타데이터
- post_id
- 201ea00ede16
- slug
- ন-201ea00ede16
- url
- https://medium.com/@rusulazomsumon_49700/%E0%A6%A8-201ea00ede16
- canonical_url
- https://medium.com/@rusulazomsumon_49700/%E0%A6%A8-201ea00ede16
- author_url
- https://medium.com/@rusulazomsumon_49700
- status
- ok
- fetched_at
- 2026-07-08 21:20:17