মিউজিক এবং ইমাম মালিকের মাযহাব
[মালিকি মাযহাবে মিউজিকের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশ্ন পেয়ে এসেছি। ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে মিউজিক সম্পর্কে মাযহাবের উলামায়ে কেরামের দুই রকম…
মিউজিক এবং ইমাম মালিকের মাযহাব
[মালিকি মাযহাবে মিউজিকের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশ্ন পেয়ে এসেছি। ব্যক্তিগত অনুসন্ধানে মিউজিক সম্পর্কে মাযহাবের উলামায়ে কেরামের দুই রকম মতামত পাওয়া যায়। হারামের মতের পক্ষে কয়েকজন মালিকি আলেমের সরাসরি কওল পেলেও হালালের মতের পক্ষে সরাসরি মালিকি আলেমদের তেমন কওল খুঁজে পাইনি। অথচ মালিকি আলেমদের ব্যাপারে মিউজিকের বিষয়ে রুখসতের মতামত বেশ প্রচলিত হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে সিদি Rashad Ali-র সাথে আলাপ হয়। সিদি Rashad Ali তার জবাবে একটি আর্টিকেল লিখেন। তার অনুবাদ পেশ হল । — অনুবাদক]
মিউজিকের বিষয়ে সুন্নি মাযহাবসমূহে মতভেদ আছে। তবে প্রায়ই ধারণা করা হয় যে অল্পসংখ্যক আলেম মিউজিকের পক্ষে মতামত দিয়েছেন; ইবনে হাযম, শাওকানি, অধুনা যুগে শায়েখ মাহমুদ শালতুত (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো আলেম বাদে বাকিরা সবাই মিউজিক হারাম ঘোষণা দিয়েছেন। একইভাবে মুতাআখখির মালিকি ও শাফেয়িদের মাঝে নির্দিষ্ট একটি মতামত কায়েম করার চেষ্টা প্রায়ই দেখা যায়। বিষয়টি ঠিক নয়। বর্ধমান আলোচনা মালিকি মাযহাবের একমাত্র বা সর্বশেষ কওল নয়, আবার মালিকিদের নানা মতের বৈচিত্র্য প্রদর্শন কিংবা হুকুম প্রদানও এখানে উদ্দেশ্য নয়। মালিকিদের মধ্যে কারা মিউজিক হালাল বলেছেন, কিভাবে এ মাসআলাটির বুঝ নিয়েছেন, সেটার উপর আলোকপাত করাই অত্র আলোচনার লক্ষ্য।
আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিমকে সাহনুন বিন সাঈদ জিজ্ঞেস করলেন: “বিবাহের অনুষ্ঠানে দফ ব্যবহার ইমাম মালিক কি অপছন্দ করতেন নাকি অনুমতি দিতেন? দফ বাজানোর জন্য লোক ভাড়া করার বিষয়ে কি অনুমতি দিতেন?” ইবনুল কাসিম বলেন: “ইমাম মালিক বিয়ের অনুষ্ঠানে দফ এবং অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র অপছন্দ করতেন। তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এবং তাঁর উত্তর ছিল যে এসব জিনিস তাঁর ভালো লাগে না।” [আল মুদাওয়ানা, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪২১]
আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহব আল মিসরি থেকে বর্ণিত, তিনি শুনেছেন ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করা হলো এমন মজলিসে উপস্থিত হবার বিষয়ে যেখানে “লাহউ” থাকে। ইমাম মালিক জবাব দিলেন: “সম্মানিত কোনো মানুষ এমন অনর্থক কাজে (লা’ইব) হাজির থাকবে, এটা আমার পছন্দ নয়।”
মালিকি আলেমদের মধ্যে আসবাগের মতামত ছিল দফ মহিলাদের জন্য জায়েয কিন্তু পুরুষদের জন্য নয়। ইবনে রুশদ এ মতামত রদ্দ করে বলেছেন: “মশহুর মত হলো দফ বাজানো এবং সে মজলিসে হাজির থাকা নারী ও পুরুষ সবার জন্যেই জায়েয। এটাই ইবনুল কাসিম এবং “ইমাম মালিকের মাযহাব” (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তবে ইমাম মালিক দীনীভাবে সম্মানিত লোকদের পক্ষে এমন অনর্থক কাজে হাজির থাকা অপছন্দ করতেন।” [আল বায়ান ওয়াত তাহসিল, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১৩]
শায়েখ জুদাঈ ব্যাখ্যা করেন: “আমি বলি: মিউজিক বিষয়ে ইমাম মালিকের এসব নুসুস ইশারা দেয় যে মিউজিক সাধারণত মাকরুহ, তা দফ হলেও। বরং এগুলো বিয়ের অনুষ্ঠানেই বাজানো হোক বলে মতামত দেন…”। [আল মুজিকি ওয়াল গিনা ফি মিযানিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ১৯৬/৭]
“কারিনা (কনটেক্সট অনুযায়ী) এখানে মাকরুহ বলতে তানযিহি বোঝাচ্ছে, তাহরিমি নয় (“আমার পছন্দ নয়”), কেননা শব্দগুলো নিষেধাজ্ঞা অর্থে নেয়া যুৎসই নয়।” [আল মুজিকি ওয়াল গিনা ফি মিযানিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ১৯৭]
এ ব্যাখ্যা দিয়েছেন মালিকি কাযি ও ফকিহ আবুল ওয়ালিদ ইবনে রুশদ তাঁর আল বায়ান ওয়াত তাহসিল কিতাবে [খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৪৩২] এবং মুদাওয়ানার শরাহ আল মুকাদ্দিমাতুল মুমাহহিদাত কিতাবে [খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬২]। তাঁর মতে, “মুদাওয়ানার মাযহাব হল এটা মুবাহের অন্তর্ভুক্ত। এটা করার চেয়ে না করাই ভালো।”
আবার, আসবাগ থেকে বর্ণিত আছে যে ইবনুল কাসিম পূর্বে প্রদর্শিত ইমাম মালিকের মতের সাথে দ্বিমত করেছেন। ইবনুল কাসিমকে এমন মজলিসে হাজির হওয়া নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাব দিলেন “যদি হালকা (খাফিফ) কিছু বাজানো হয়, যেমন দফ বা মহিলারা যেসব বাজায়, এতে কোনো সমস্যা দেখি না (মা আরা বিহি বা’স)।” [আল বায়ান ওয়াত তাহসিল, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১৩, আসবাগ বর্ণনা করেছেন ইবনুল কাসিম থেকে]
এমনকি, একই কথা ইমাম মালিক থেকেও বর্ণিত হয়েছে হাফেয ইবনে আব্দিল বারের আত তামহিদ কিতাবে। [খন্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৮০, ইবনুল কাসিম এবং ইমাম মালিক উভয় থেকে বর্ণনা এসেছে]
বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে ইমাম মালিক মিউজিক বাজাতে নিরুৎসাহিত করেছেন, তবে একদম হারাম বলেননি। কুরআনের আয়াতের উদ্ধতি দিয়েছেন, যেমন সূরা ইউনুসের আয়াত ৩২: “হকের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কি বাকি থাকে?”, এবং “এটা হকের অন্তর্ভুক্ত নয়!” । আবার মদিনায় প্রচলন ছিল যে “কেবল ফাসিকরাই মিউজিক শোনে” — এগুলো ইবনে আব্দিল হাকামের আল মুখতারাসারুল কাবির কিতাবে এসেছে। এহেন বর্ণনা মিউজিক হারাম ঘোষণা করে না, বরং “বাদ দেয়াই কাম্য” বোঝায়। [আল মুখতাসারুল কাবির, পৃষ্ঠা ৫৫৭]
সুতরাং, মিউজিক জিনিসটা সংস্কৃতি ও রীতিনীতির ব্যাপার হিসেবে ধরা হয়েছে, যেটা সাধারণতঃ সামাজিকভাবে ভালো চোখে দেখা হয় না, এবং গণ্যমান্য লোকেরা অধিকহারে করে না। এটা বলা হয় “খাওয়ারিমুল মুরুআহ” [আল মুজিকি ওয়াল গিনা ফি মিযানিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ১৯৯]। যারা মিউজিক করতো, তা তাদের “চারিত্রিক কমতি” (character flaw) হিসেবে ধরা হতো। [আব্দুল্লাহ বিন নাফে থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তাদের সাক্ষ্য কবুল হবে না, ইবনে আবিদ দুনইয়া “যাম্মুল মালাহি” কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং শায়েখ জুদাঈর কিতাবের পৃষ্ঠা ১৯৯-তে বর্ণনার সনদ সহিহ বলা হয়েছে।]
শায়েখ জুদাঈ দেখিয়েছেন যে ইমাম মালিক মিউজিককে হারাম গণ্য করেননি, বরং বুঝিয়েছেন যে এটা পরিস্থিতি, অবস্থা, এবং সামাজিক রীতিনীতির উপর নির্ভরশীল। [আল মুজিকি ওয়াল গিনা ফি মিযানিল ইসলাম, পৃষ্ঠা ২০০]
পরবর্তী যুগের নাওয়াযিল ও ফাতওয়ার কিতাবাদিতে পরবর্তী যুগের উলামায়ে কেরামের ইখতিলাফের কথা বিষদভাবে পাওয়া যায়।
যেমন, আল ওয়াযযানি মালিকি ফিকহের সুপরিচিত কিছু উলামায়ে কেরামের আলোচনা এনেছেন। দেখা যাচ্ছে যে, মিউজিক কেউ হারাম বলেছেন, কেউ জায়েয বলেছেন, কেউ ফাতওয়ার একটি নিয়ম প্রয়োগ করেছেন যে যদি কোনো ইমাম থেকে মতামত প্রসিদ্ধ ও শুদ্ধ হয়ে থাকে, তবে তা হারাম হওয়ার কথা নয়।
সুবিখ্যাত আলেম শায়েখ তাকিউদ্দিন ইবনে দাকিকিল ঈদ ছিলেন কাযিউল কুযাত। মালিকি ও শাফেয়ি উভয় মাযহাবের ফাতওয়া দিতেন। লকব ছিল মুফতিউল ফিরাক। তাঁর মতে: “(মিউজিক) নাজায়েযে হবার (আদামুল জাওয়ায) পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য হাদিস নেই। তাই বিষয়টি ইজতিহাদি। ইজতিহাদ মতে কেউ বলেছেন নাজায়েয, কেউ বলেছেন জায়েয।” এবং সহজ ভাষায়, “এটা মুবাহ।” [আন নাওয়াযিল আল জাদিদা আল কুবরা — আল ইমাম আল আল্লামা আল ফাকিহ আবু ঈসা আল ওয়াযযানি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫৬]
সুবিখ্যাত মালিকি আলেম তাজুদ্দিন আল ফাকিহানি একইভাবে বলেন: “বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত থেকে স্পষ্ট (সরিহ) নিষেধাজ্ঞা কিংবা আমাদের নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য হাদিসে স্পষ্ট (সহিহ সরিহ) নিষেধাজ্ঞা আমি পাইনি। বরং এগুলো সাধারণ অর্থবোধক আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা এবং কাতঈ দলিল নয়।” [আন নাওয়াযিল আল জাদিদা আল কুবরা — আবু ঈসা আল ওয়াযযানি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫৭]
আল্লামা ওয়াযযানি মিউজিক জায়েযের মত পোষণ করতেন। আবার বলেছেন, মিউজিক নিয়ে ইখতিলাফ হওয়ার বিষয়টা মিউজিক হারাম গণ্যকারীরাও যথেষ্ট ভালো করে উল্লেখ করেছেন। তাই এটা একে অপরের মতামত ইনকার করার মতো বিষয় না।
আল্লামা ওয়াযযানি এটা আরো শক্তভাবে উল্লেখ করতে সেসব হাদিস ও রেওয়ায়েত ব্যাখ্যা করেন, যেগুলো মিউজিক হারামের বিষয়ে স্পষ্ট নয় অথচ মিউজিককে মুতলাকান হারাম বলার দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন, মুখতাসার খলিলের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার আল মাওয়াকের বক্তব্য উল্লেখ করেন। আল মাযিরি (যিনি কাযি আব্দুল ওয়াহহাব আল বাগদাদির আত তালকিন কিতাবের শরাহ লিখেছেন), যাঁর লেখা ছিল মুখতাসার খলিলের চার উৎস গ্রন্থের একটি, তাঁর ব্যাখ্যা আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করে আল মাওয়াক বলেন:
“আল মাওয়াক বলেন: বেশিরভাগ সময়ে মদ্যপানের সাথে তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র, ট্রাম্পেট, এবং বায়ুচালিত বাদ্যযন্ত্র থাকতো, যা মদ্যপানে আরো উৎসাহ যোগাতো। তাই মদ যখন হারাম করা হয়, তখন হারামের হুকুম সেগুলোর উপরও প্রয়োগ করা হয়। হুকুমটি মদ্যপানে আহবানের জন্য বাদ্যযন্ত্রগুলো বাজানোর হুকুম থেকে বিপরীত।” [আন নাওয়াযিল আল জাদিদা আল কুবরা — আবু ঈসা আল ওয়াযযানি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৪৮]
ওয়াযযানি অন্যান্য দলিলও নিয়ে আসেন, যা দিয়ে বোঝা যায় যে মুতলাক কথাবার্তা বোঝার উপায় পাওয়া যায় ফুকাহায়ে কেরামের ব্যাখ্যা ও মুকাইয়াদ-করণের কথা ও লেখায়। [আন নাওয়াযিল আল জাদিদা আল কুবরা — আবু ঈসা আল ওয়াযযানি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৪৮]
এসবের সাথে ওয়াযযানি অন্যতম মুজতাহিদ ইমাম ও শাফেয়ি মাযহাবের বড় আলেম আল ইযয বিন আব্দিস সালামের আলাপ নিয়ে আসেন। আল ইযয শাফেয়ি মাযহাবের বাইরেও মতামত পোষণ করতেন এবং মালিকি মাযহাবের অনুযায়ী মত গ্রহণ করতেন। তাঁকে যখন সব রকম বাদ্যযন্ত্রের (আলাতুল মালাহি কুল্লুহা) বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি জবাব দেন যে সেগুলো মুবাহ। এ মতামত দেবার কারণ শারাফুদ্দিন ব্যাখ্যা করেন যে: “সুন্নাহ থেকে এসব হারাম বলার কোনো সহিহ দলিল নেই…।” [আন নাওয়াযিল আল জাদিদা আল কুবরা — আবু ঈসা আল ওয়াযযানি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫৭]
উল্লেখযোগ্য একটা বিষয় হল, ইবনে রুশদের বক্তব্য সংশোধন করতে বিখ্যাত কাযি, ফকিহ ও হাদিসের আলেম আবু বকর ইবনুল আরাবির রেফারেন্স আনা হয়েছে। ইবনে রুশদের আলাপটা এমন যে, সম্মানিত (হাইবা)মানুষদের জন্য গান শোনা বা সেরকম কাজকর্ম করা যুৎসই নয়। ইবনুল আরাবি বলেন, অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) “এরকম কাজ” করেছেন (গান শোনা), মসজিদে এমন “কাজ হয়েছে”, আপন স্ত্রী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কেও সহায়তা করেছেন “এরকম কাজ” করতে, এবং “আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সম্মানিত আর কেউ নেই।” [সানানুল মুহতাদিন ফি মাকামাতিদ দীন —গ্রানাডার সর্বশেষ কাযি মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল আবদারি আল গারনাতি, যিনি আল মাওয়াক নামে অধিক পরিচিত, পৃষ্ঠা ১২৭]
তাই আল মাওয়াকের মতে মিউজিকের মতো জিনিস “ফাতওয়ার আলোকে জনসাধারণের জন্য মুবাহ, এটা করায় কোনো লাভ বা ক্ষতি নেই।” [সানানুল মুহতাদিন ফি মাকামাতিদ দীন — আল মাওয়াক, পৃষ্ঠা ১২৯]
হাদিসের কিতাবে, বিশেষ করে বুখারি-মুসলিমে উপরের উল্লিখিত ব্যাখ্যার আলোচনা পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাসায় যখন ঈদের দিন গান গাওয়া হচ্ছিল, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আপন কণ্যাকে ধমক দিলেন যে “নবির ঘরে শয়তানের ট্রাম্পেট” বাজানো হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে সংশোধন করে বললেন: “তাদের ছেড়ে দাও হে আবু বকর, আজ তো ঈদের দিন!” [বুখারি, ঈদের দিন অংশ; মুসলিম, ঈদের দিন গুনাহবিহীন আনন্দ করা অংশ]
ইবনুল আরাবি তাঁর আহকামুল কুরআন কিতাবে হাদিসগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। বুখারির সবচেয়ে প্রাচীন প্রকাশিত শরাহ লিখেছেন ইবনে বাত্তাল, তিনি বলেন: এসব বর্ণনায় বোঝা যায় যে বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দ-উল্লাস এবং মিউজিক (লা’ইব ও লাহউ) থাকলেও আলেম ও নেতা (ইমাম)-রা হাজির হতে পারবেন। [সানানুল মুহতাদিন ফি মাকামাতিদ দীন — আল মাওয়াক, পৃষ্ঠা ১৭৬]
কাযি আবু বকর ইবনুল আরাবি নিঃশর্তভাবে বলেন, “মিউজিক হারাম নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) নিজ বাসায় ও অন্যদের বাসায় তা শুনেছেন।” [সানানুল মুহতাদিন ফি মাকামাতিদ দীন — আল মাওয়াক, পৃষ্ঠা ১৭৬]
— —
অনুবাদ — এম নাহী
তারিখ — ১২ই জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
메타데이터
- post_id
- 96ac811efea6
- slug
- মিউজিক-এবং-ইমাম-মালিকের-মাযহাব-96ac811efea6
- url
- https://medium.com/@nahi4159/%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC-96ac811efea6
- canonical_url
- https://medium.com/@nahi4159/%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%89%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%87%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AE-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC-96ac811efea6
- author_url
- https://medium.com/@nahi4159
- status
- ok
- fetched_at
- 2026-07-21 08:44:55