বিদ'আত: সংজ্ঞায়ন (১ম পর্ব)
বিদ'আতের (بدعة) শাব্দিক অর্থ নতুন সংযোজন। শাব্দিক অর্থের দিক থেকে নতুন যেকোনো কিছুই বিদ'আত, তবে শরঈ অর্থে দ্বীনের মধ্যে সংযোজিত নতুন…
বিদ'আত: সংজ্ঞায়ন (১ম পর্ব)

বিদ'আতের (بدعة) শাব্দিক অর্থ নতুন সংযোজন। শাব্দিক অর্থের দিক থেকে নতুন যেকোনো কিছুই বিদ'আত, তবে শরঈ অর্থে দ্বীনের মধ্যে সংযোজিত নতুন জিনিসকে বিদ'আত বলা হয়। তাই দ্বীনের দিকে যেসব জিনিসকে নিসবত করা হয় না, সেগুলো শরঈ অর্থে বিদ'আত নয়। যেমন: জন্মদিন পালন বা কোনো প্রযুক্তিগত আবিষ্কার। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায় সকল শরঈ বিদ'আতই কি পরিত্যাজ্য?
রাসূল ﷺ থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে সাহাবাদের ইজমাঈ কোনো মাফহুম পাওয়া যায় না। তাদের মধ্যে মতভেদের অস্তিত্ব দেখা যায়। যেমন, উমার রা. যখন আবু বকর রা.-কে কুরআন সংকলনের কথা বলেন, তখন আবু বকর রা. পাল্টা বলেন যে, তুমি কি চাও আমি এমন কিছু করি যেটা রাসূল ﷺ করেননি। উসমান রা. জুমার দ্বিতীয় আযান চালু করলে, ইবনে উমার রা. তার স্পষ্ট বিরোধিতা করে বলেন যে, "সমস্ত বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা, যদিও মানুষ তাকে উত্তম মনে করে।" আবার উসমান রা. যখন কুরআনের একটি আহরুফ সংরক্ষণ করে বাকিগুলোকে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. এর বিরোধিতা করেছিলেন।
সাহাবিদের মতপার্থক্যের এই ধারাবাহিকতা বিধিবদ্ধ হয় ইমাম মালিক এবং ইমাম শাফিঈর মাঝে। ইমাম মালিক পড়েছিলেন ইবনে উমার রা.-এর ছাত্র নাফির সান্নিধ্যে, তাই তার মধ্যে ইবনে উমার রা. এর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। ইমাম শাতিবি তার আল ই'তিসামে ইমাম মালিককে উদ্ধৃত করেছেন:
"যে ব্যক্তি বিদ'আত উদ্ভাবন করে সেটাকে উত্তম (হাসানা) বলে, সে মূলত এই দাবি করে যে নবী ﷺ নুবুওয়াতের আমানত ভঙ্গ করেছেন, কারণ আল্লাহ বলেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করেছি।” যা কিছু সেদিন দ্বীনের অংশ ছিল না, তা আজও দ্বীনের অংশ হতে পারেনা।”
অন্যদিকে তাঁরই বিখ্যাত ছাত্র ইমাম শাফিঈ এক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন। আবু নুয়াইম আল-ইসফাহানী হিলইয়াতুল আউলিয়ায় ইমাম শাফিঈকে উদ্ধৃত করেছেন:
"বিদ'আত দুই প্রকার: যেগুলো আল্লাহর কিতাব, সুন্নাহ, বা আলেমদের ইজমার বিরুদ্ধে যায়, তা পরিত্যাজ্য বিদ'আত; অন্যদিকে কুরআন, সুন্নাহ, বা ইজমার বিরোধী নয় এমন ভালো যা কিছু নতুনভাবে সংযোজন করা হয় তা ভালো বিদ'আত।"
ইমাম মালিক মনে করতেন দ্বীনের ক্ষেত্রে সবকিছুই রাসূল ﷺ থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হতে হবে, অপ্রমাণিত হলে তা বিদ'আত, এবং বিদ'আত মানেই পরিত্যাজ্য। আর ইমাম শাফিঈ মনে করতেন যে, নতুন কোনো জিনিস যা কুরআন-সুন্নাহতে আকারে-ইঙ্গিতে পাওয়া যায়, এমন জিনিস কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা বিরোধী না হলে বিদ’আত হাসানা বা ভালো বিদ’আত। রাসূল ﷺ থেকে এ ব্যাপারে নিচের মৌলিক হাদিসগুলো বর্ণনা করা হয়:
“তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে জীবিত থাকবে তারা অচিরেই প্রচুর মতবিরোধ দেখবে। তখন তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাত এবং আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলীফাহ্গণের সুন্নাত অনুসরণ করবে, তা দাঁত দিয়ে কামড়ে আঁকড়ে থাকবে। সাবধান প্রত্যেক নবাবিষ্কার সম্পর্কে! কারণ প্রত্যেক নবাবিষ্কার হলো বিদ’আত এবং প্রত্যেক বিদ’আত হলো ভ্রষ্টতা।” [আবু দাউদ ৪৬০৭]
"কেউ আমাদের এ শরী‘আতে নেই এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যাত” [বুখারি ২৬৯৭]
“যে লোক ইসলামে কোনো ভালো সুন্নাহ চালু করলো এবং পরবর্তীকালে সে অনুসারে ‘আমল করা হলো তাহলে ‘আমলকারীর প্রতিদানের সমান প্রতিদান তার জন্য লিখিত হবে। এতে তাদের প্রতিদানে কোন ঘাটতি হবে না। আর যে লোক ইসলামে কোনো খারাপ সুন্নাহ চালু করলো এবং তারপর সে অনুযায়ী ‘আমল করা হলো তাহলে ঐ ‘আমলকারীর খারাপ প্রতিদানের সমান গুনাহ তার জন্য লিখিত হবে। এতে তাদের পাপে সামান্য ঘাটতি হবে না।” [মুসলিম ৬৪৬৬/৬৬৯৩]
“প্রত্যেক নবোদ্ভাবিত বিষয়ই বিদ'আত, প্রত্যেক বিদ'আতই পথভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক পথভ্রষ্টতার স্থান জাহান্নাম।” [নাসাঈ ১৫৭৮]
"তিন জনের একটি দল নবী ﷺ এর ‘ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য তার স্ত্রীদের বাড়িতে আসলো। যখন তাঁদেরকে এ সম্পর্কে জানানো হলো, তখন তারা ‘ইবাদাতের পরিমাণ কম মনে করলো এবং বললো, নবী ﷺ এর সঙ্গে আমাদের তুলনা হতে পারে না। কারণ, তাঁর আগের ও পরের সকল গুনাহ্ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। এমন সময় তাদের মধ্য হতে একজন বললো, আমি সারা জীবন রাতভর সালাত আদায় করতে থাকবো। অপর একজন বললো, আমি সবসময় সাওম পালন করবো এবং কক্ষনো বাদ দিবো না। অপরজন বলল, আমি নারী সংসর্গ ত্যাগ করবো, কখনও বিয়ে করবো না। এরপর রসূলুল্লাহ্ ﷺ তাদের নিকট এলেন এবং বললেন, “তোমরা কি ঐ সব লোক যারা এমন এমন কথাবার্তা বলেছ? আল্লাহ্র কসম! আমি আল্লাহ্কে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে তাঁর প্রতি বেশি অনুগত; অথচ আমি সাওম পালন করি, আবার তা থেকে বিরতও থাকি। সালাত আদায় করি এবং নিদ্রা যাই, আর নারীদেরকে বিয়েও করি। সুতরাং যারা আমার সুন্নাতের প্রতি বিরাগ পোষণ করবে, তারা আমার দলভুক্ত নয়।" [বুখারি ৫০৬৩]
আনুষঙ্গিক দলিলঃ
"একবার আমরা নবী ﷺ এর পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা উঠিয়ে ‘سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه’ বললেন, তখন পিছন থেকে এক সাহাবী ‘رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ حَمداً كَثيراً طَيِّباً مُبارَكاً فيِهِ’ বললেন। সালাত শেষ করে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে এরূপ বলেছিলো? সে সাহাবী বললেন, আমি। তখন তিনি বললেনঃ আমি দেখলাম ত্রিশ জনের অধিক মালাইকা এর সওয়াব কে পূর্বে লিখবেন তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছেন। [বুখারি ৭৯৯]
“এক দিন ভোরে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিলাল রা.-কে ডেকে বললেনঃ হে বিলাল! তুমি জান্নাতে কি কারণে আমার আগে আগে থাকছো? যখনই আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি সে সময়ই আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি। গত রাতেও আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি এবং আমার আগে তোমার জুতার শব্দ শুনতে পেয়েছি......তারপর বিলাল রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কখনো আমি আযান দিলেই দুই রাক’আত নামায আদায় করি এবং কখনো আমার উযূ ছুটে গেলেই আমি উযূ করি এবং মনে করি আল্লাহ তা’আলার নামে দুই রাক’আত নামায আদায় করা আমার কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেনঃ এ দুটি কারণেই (তোমার এ মর্যাদা)।" [তিরমিযি ৩৬৮৯]
"নবী ﷺ-এর সাহাবীদের কিছু সাহাবী আরবের এক গোত্রের নিকট আসলেন। গোত্রের লোকেরা তাঁদের কোন আতিথেয়তা করল না। তাঁরা সেখানে থাকতেই হঠাৎ সেই গোত্রের নেতাকে সর্প দংশন করল। তখন তারা এসে বললো: আপনাদের কাছে কি কোনো ঔষধ আছে কিংবা আপনাদের মধ্যে ঝাড়-ফুঁককারী লোক আছেন কি? তাঁরা উত্তর দিলেনঃ হাঁ। তবে তোমরা আমাদের কোন আতিথেয়তা করোনি। কাজেই আমাদের জন্য কোন পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট না করা পর্যন্ত আমরা তা করবো না। ফলে তারা তাদের জন্য এক পাল বকরী পারিশ্রমিক দিতে রাজি হলো। তখন একজন সাহাবী উম্মুল কুরআন (সূরা আল-ফাতিহা) পড়তে লাগলেন এবং মুখে থুথু জমা করে সে ব্যক্তির গায়ে ছিটিয়ে দিলেন। ফলে সে রোগমুক্ত হলো। এরপর তাঁরা বকরীগুলো নিয়ে এসে বলল, আমরা নবী ﷺ কে জিজ্ঞেস করার পূর্বে এটি স্পর্শ করবো না। এরপর তাঁরা এ বিষয়ে নবী ﷺ কে জিজ্ঞেস করলেন। নবী ﷺ শুনে হেসে দিলেন এবং বললেনঃ তোমরা কীভাবে জানলে যে, এটি রোগ সারায়? ঠিকাছে বক্রীগুলো নিয়ে যাও এবং তাতে আমার জন্যও এক ভাগ রেখে দিও।” [বুখারি ৫৭৩৬]
"আমি রমযানের এক রাতে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব রা. এর সাথে মসজিদে নববীতে গিয়ে দেখি যে, লোকেরা এলোমেলোভাবে জামা’আতে বিভক্ত। কেউ একাকী সালাত আদায় করছে আবার কোনো ব্যক্তি সালাত আদায় করছে এবং ইকতেদা করে একদল লোক সালাত আদায় করছে। ‘উমর (রাঃ) বললেন, আমি মনে করি যে, এই লোকদের যদি আমি একজন ক্বারীর (ইমামের) পিছনে জমা করে দেই, তবে তা উত্তম হবে। এরপর তিনি ‘উবাই ইব্নু ‘কাব (রাঃ)- এর পিছনে সকলকে জমা করে দিলেন। পরে আর এক রাতে আমি তাঁর [‘উমর (রাঃ)] সাথে বের হই। তখন লোকেরা তাদের ইমামের সাথে সালাত আদায় করছিলো। ‘উমর (রাঃ) বললেন, কত না সুন্দর এই বিদ'আত! তোমরা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাক তা রাতের ঐ অংশ অপেক্ষা উত্তম যে অংশে তোমরা সালাত আদায় করো, এর দ্বারা তিনি শেষ রাত বুঝিয়েছেন, কেননা তখন রাতের প্রথমভাগে লোকেরা সালাত আদায় করতো।" [বুখারি ২০১০]
এসবগুলো হাদিসকেই দুদল দুরকমভাবে ব্যাখ্যা করে।
প্রথমদল: রাসূল ﷺ স্পষ্টতই দ্বীনের মধ্যে ‘প্রত্যেক’ বিদ'আতকে প্রত্যাখ্যাত, পথভ্রষ্টতা বলেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর কেবল খুলাফায়ে রাশিদিনের সুন্নাহ মানার কথা বলেছেন।
অপরদল: উলূমে দ্বীনে এটা স্বীকৃত যে ‘প্রত্যেক’ বলতে আরবি ভাষায় সবমসয় সবকিছুর অন্তর্ভুক্তি বুঝায় না। আর বিদ'আতে হাসানা শরি'আহ বিরোধী নয়।
অপরদল: রাসূল ﷺ সুন্নাহর বিপরীত হিসেবে বিদ’আতকে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজেই সুন্নাহকে দুই ভাগ করেছেন — ভালো সুন্নাহ ও খারাপ সুন্নাহ। অন্যকথায়, ভালো বিদ’আত ও খারাপ বিদ’আত।
প্রথমদল: রাসূল ﷺ এর ভালো সুন্নাত, খারাপ সুন্নাত বলাটা শাব্দিক, শরঈ নয়।
প্রথমদল: রাসূল ﷺ সাহাবিদের কিছু আমলকে স্বীকৃতি দিলেও, কিছু আমলকে তিনি স্বীকৃতি দেননি। ফলে তিনি কোনটাকে স্বীকৃতি দিবেন আর দিবেন না তাঁর মৃত্যুর পর তা জানার সুযোগ নেই।
অপরদল: রাসূল ﷺ এই স্বীকৃতি দেয়া-না দেয়ার পেছনে আছে কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা। তিন সাহাবির হাদিসে উক্ত আমলগুলো বৈরাগ্য, আর বৈরাগ্যকে দ্বীন মনে করা খারাপ বিদ’আত, যা কুরআন-সুন্নাহ থেকে বের করা সম্ভব।
অপরদল: উমার রা. রাসূল ﷺ এর অনুসরণেই ভালো সুন্নাহ অর্থে ভালো বিদ'আত ব্যবহার করেছেন।
প্রথমদল: তারাবির সালাতের ব্যাপারে উমার রা. এর কথাটাও শাব্দিক, শরঈ নয়।
প্রথমদল: তারাবির জামাআত রাসূল ﷺ এর সময়েও হয়েছে।
অপরদল: রাসূল ﷺ কখনো জামাআতের নির্দেশ দেননি, বরং সাহাবারা এসে পেছনে জুড়েছেন এবং পরে আর সেটা অব্যাহত হয়নি।
অপরদল: কুরআন সংকলন, আহরুফ, আযান প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ’আতে হাসানার পক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উলুমে শরীয়াহর বিভিন্ন উসুল-শাখা-নিয়ম, ইলম শিক্ষাব্যবস্থা এসবও বিদ'আত।
প্রথমদল: প্রথমে উল্লিখিত বিষয়গুলো বিদ'আত নয়, খুলাফায়ে রাশিদিনের সুন্নাহ। আর পরের বিষয়গুলো জরুরিয়াত বা মাসলাহা মুরসালা।
বিদ'আত সংজ্ঞায়নের ইখতিলাফটা জটিল, কিছুটা শাব্দিকও বটে। এখানে সহজে মূল অংশটুকু উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেহেতু উম্মাহর সাহাবী ও আইম্মায়ে কিরামের মাঝেই এই ইখতিলাফ বিদ্যমান, তাই সাধারণদের জন্যে এখান থেকে সঠিক কোনটা তা নিয়ে ভাবার বিলাসিতা না করে নিজের নিকটবর্তী আলিমকে অনুসরণ করাই শ্রেয়। লেখার উদ্দেশ্য হলো বিদ'আত নিয়ে জল ঘোলাটে করার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা এবং ইখতিলাফপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের অবস্থানকে শক্ত বলার পাশাপাশি অন্যদের অবস্থানকে ভুল না বলার আদব প্রতিষ্ঠিত করা।
메타데이터
- post_id
- d80eedb631bd
- slug
- বিদআতঃ-সংজ্ঞায়ন-১ম-পর্ব-d80eedb631bd
- url
- https://medium.com/@rizwanulisl/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A6%83-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A7%A7%E0%A6%AE-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-d80eedb631bd
- canonical_url
- https://medium.com/@rizwanulisl/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%86%E0%A6%A4%E0%A6%83-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%A8-%E0%A7%A7%E0%A6%AE-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-d80eedb631bd
- author_url
- https://medium.com/@rizwanulisl
- status
- ok
- fetched_at
- 2026-07-25 09:10:25