← Back to list

New Job?

আমার চোখের সামনে প্রথমে চাকরি গেল টাইপিস্টদের।

Rakibul Hassan · 2026-06-23 17:33 · 0 claps · 1.6 min read
#rakib #rakibul-hassan #jobs #ai #radiology
Open on Medium ↗
Wiki topics: AI · AI · General IMG · Medical Imaging & Radiology 🎵 · Music & Audio

New Job?

আমার চোখের সামনে প্রথমে চাকরি গেল টাইপিস্টদের।

সচিবালয়ের সামনে আন্দোলন হলো। কিন্তু যারা কম্পিউটার শিখলেন, তারা টিকে গেলেন। বাকিরা গেলেন। তারপর দেখলাম লিফটম্যানদের। নতুন মডার্ন লিফট এসে সেই কাজটা নিয়ে নিল। এখনো কিছু কিছু জায়গায় লিফটম্যান আছেন। গেলেই গল্প জুড়ে বসি।

এখন শুনছি রেডিওলজিস্টদের পালা। আমি গ্লোবাল পারস্পেক্টিভ থেকে বলছি। বাংলাদেশেও এই ঢেউ আসছে সামনে।

একজন রেডিওলজিস্ট তাঁর পুরো লাইফে যত স্ক্যান দেখেন, একটা এআই সেটা দেখে ফেলে কয়েক মিনিটে। বিলিয়ন বিলিয়ন স্ক্যান দেখার পর মেশিন এতটাই স্মার্ট হয়ে যায় যে হিউম্যান রেডিওলজিস্টকেও পিছনে ফেলে দেয়। খবরটা শুনে অনেকে ভাবলেন — এবার বোধহয় শেষ।

কিন্তু উল্টো হলো। রেডিওলজিস্টের ডিমান্ড বেড়ে গেল। এআই আসার পর রেডিওলজিস্টের চাহিদা কমেনি, বরং বেড়ে গেছে।

কারণটা সহজ। একটা স্ক্যানের রিপোর্ট ভুল হলে দায়িত্ব কে নেবে? এআই কোম্পানি তো আর কোর্টে দাঁড়াবে না। রোগীর পরিবার চাইবে একজন মানুষকে দোষারোপ করতে। কাজেই ফাইনাল রিপোর্টে সই করতে হবে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানুষকেই।

তবে এটা শুধু লিগ্যাল ব্যাপার না। আরো বড় কিছু হচ্ছে।

অর্থনীতিতে একটা থিওরি আছে। নাম Jevons’ Paradox। থিওরিটা বলে — কোনো কাজ যখন সস্তা ও দ্রুত হয়, তখন সেই কাজের ডিমান্ড এত বেড়ে যায় যে শেষমেশ আগের চেয়ে বেশি লোক লাগে, কম নয়।

রেডিওলজিতে ঠিক এটাই হলো।

আগে একটা এমআরআই বা সিটি স্ক্যান রিড করতে অনেক সময় লাগত। খরচও বেশি। তাই ডাক্তাররা স্ক্যান দিতেন শুধু একদম দরকার হলে। এআই আসার পর স্ক্যান দ্রুত হলো, সস্তা হলো। আর তখনই হাসপাতালগুলো ভাবলো — এখন প্রিভেন্টিভ স্ক্রিনিং করা যায়। প্রতি বছর স্ক্যান করলে ক্যান্সার আগে ধরা পড়বে। স্ক্যানের সংখ্যা দুইশো ভাগ বেড়ে গেল।

এআই একজন রেডিওলজিস্টকে পঞ্চাশ ভাগ দ্রুত করলো। কিন্তু মোট স্ক্যান বাড়লো দ্বিগুণ। কাজ আসলে বাড়লো। আগে একজন রেডিওলজিস্ট সারাদিন অন্ধকার ঘরে বসে ছবি দেখতেন। ৯০ ভাগ সময় যেত নরমাল স্ক্যান দেখে।

এআই এখন নরমাল স্ক্যানগুলো আলাদা করে ফেলে। জটিলগুলো ফ্ল্যাগ করে দেয়। রেডিওলজিস্ট এখন সেই জটিল কেসগুলো নিয়ে অনকোলজিস্ট আর সার্জনদের সাথে কথা বলেন। রোগীর সাথে বসেন। সিদ্ধান্ত নেন।

কাজ কমেনি। বরং কাজটা আরো মানবিক হয়েছে। মানুষের অন্ধকার রুমে বসে থাকাটা কমেছে।

এক্সেল যখন বের হলো, তখন সবাই বলেছিল — অ্যাকাউন্ট্যান্টদের চাকরি শেষ। কম্পিউটার নিজেই হিসেব করবে। হলো উল্টো। হিসেব করা সহজ হওয়ায় ব্যবসাগুলো আরো বেশি ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস চাইল। অ্যাকাউন্ট্যান্টের সংখ্যা বেড়ে গেল।

রেডিওলজিতে একই ঘটনা ঘটছে। তবে আমি চিন্তা করছি একটা অন্য ঘটনা। হয়তো একদিন হাসপাতাল পুরো দায়িত্বটাই একটা এআই কোম্পানিকে দিয়ে দেবে। চুক্তিতে লেখা থাকবে — রিপোর্ট ভুল হলে সেই কোম্পানি দায়ী। সেদিন হয়তো সমীকরণটা একটু বদলাবে। ওই ধরনের কোম্পানি নিয়ে চিন্তা করছি বহু বছর ধরে।

কিন্তু সেটা এখনো আসেনি।

এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী রেডিওলজিস্টরা ভালোই আছেন। এআইকে সাথে নিয়ে চলছেন। ঠিক যেমন টাইপিস্টদের মধ্যে যারা কম্পিউটার শিখেছিলেন — তারা টিকে গিয়েছিলেন।

লিফটম্যানরা পারেননি।

পার্থক্যটা সেখানেই।

— -

পুনশ্চ: আমাদের বিজনেসে কি এআই ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছি?


메타데이터
post_id
dbbf258e08db
slug
new-job-dbbf258e08db
url
https://medium.com/@raqueeb/new-job-dbbf258e08db
canonical_url
https://medium.com/@raqueeb/new-job-dbbf258e08db
author_url
https://medium.com/@raqueeb
status
ok
fetched_at
2026-07-09 20:10:33